প্রেমের একাল-সেকাল

এক সময় প্রেমটা ছিল খুব মধুর।  কিছু ভয়, কিছু লজ্জা, কিছু  সংকীর্ণতা সব মিলিয়ে কেমন জানি একটা অদ্ভুত অনুভূতি।
লুকিয়ে কাউকে বন্ধুর মাধ্যমে পত্র পাঠানো, পত্রের ভাঁজে গোলাপের পাপড়ি ভরে দেওয়া, সেই পত্র আবার বইয়ের ভাঁজে গুঁজে রাখা! স্কুল এ যাওয়ার পথে গলির মোড়ের চা এর দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা, চোখে চোখ পরতেই লজ্জায় মেয়েটির মাথা নত করে তড়িৎ গতিতে কদম ফেলা! বন্ধুর নাম করে ফোনে কথা বলা, বার বার ফোন করাতে পরিবারের অন্য কেও ফোন ধরলে রং নাম্বার বলে কেটে দেওয়া! বিকেলে বেলায় বাড়ীর আশে পাশে রিকশা বা মোটর সাইকেল নিয়ে টহল দেওয়া! চিঠির উত্তর না পেলে, মনের আকাশে মেঘের ঘনঘটা! একটা দিন মানুষ টা কে রাস্তায় দাড়িয়ে থাকতে না দেখলে, বার বার পিছু ফিরে আনমনে তাকে খুঁজে বেড়ানো।ভালবাসার গভীরতা বুঝাতে রোজ স্কুলের সামনে তীর্থের কাকের মত রোদে পুড়ে দাঁড়িয়ে থাকা!

কত অন্যরকম ছিল প্রেম! কত ভিন্ন ছিল আমাদের আবেগ অনুভূতি প্রকাশের ধারা!

এখন, সময় বদলেছে। সময়ের সাথে বদলেছে মানুষ! বদলেছে মানুষের প্রকাশ ভঙ্গি।
আজকের প্রেম যেমন অতি সহজে আসে, তেমনি অতি সহজে চলেও যায়। আজ প্রেম গেলে আবারো প্রেম আসে। হারানোর শোকটা হয় ক্ষণস্থায়ী। আজকের প্রেম বড় অকৃত্রিম।
যুগে যুগে কত কবি, মহা মনিষীরা, প্রেমের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে কত গান, কবিতা, গদ্য লিখে গেছেন। আজও তাদের লিখায় প্রেমের সুপ্ত অনুভূত গুলো পদ্ম ফুলের সুভাস বয়ে আনে।
এখন প্রেম মানেই কাছে পাওয়ার আকুতি! প্রেম মানেই কিছু একটা লুফে নেবার তাড়া, সমানে সমান ভাগাভাগি।
সেই প্রেম এখন আর সচরাচর দেখা যায়না! যা দেখি, তার বেশীটাই আকর্ষণ, মোহ বা উত্তেজনা!