নারী জ্বোছনা বিলাসী হইয়োনা

শমশের আলীর মা চেচাচ্ছেন। রাগে তার চোখ মুখ ফেটে পরছে। পাশেই শমশের আলী মাথায় হাত রেখে বসে আছেন। 
– তরে কইসিলাম রে গুলামের পুত বউরে দুনিয়া চিনাইস না! হেতেরে কলেজ যাইতে দেইস না! নাহ! বউ এর মজা পাইয়া তার ইশারায় নাচ্ছোস। অহন বুঝ! বউ তালাক নামা পাঠাইসে! বংশের ইজ্জত আর রইলেনা। কুলাংগার পুলা গলায় দরি দে। এই দিন দেহার লাগি কি বউরে কলেজ পাঠাইসিলি রে শমশের? আল্লাহ ওই হারামী বেডির বিচার করো। আমার পুলারটা খাইয়া পইরা হেতি আমার পুলার লগেই নিমকহারামী করলো ………।”
ছেলের বউ তালাকনামা পাঠিয়েছেন। রাগে দুঃখে সেই সকাল থেকেই শমশের আলীর মা একি বিলাপ করে যাচ্ছেন।

নাজমা বেগম আর শমশের আলীর সংসার ছয় বছরের। একটি মেয়ে রয়েছে। স্বামী ডাইল খোর, গাজা খোর দু’টোই বলা যায়। এসব থেকে বাঁধা দিতে গেলেই নাজমা বেগমের উপর চলত গালাগালি, শারীরিক নির্যাতন। শাশুড়িকে বলেও লাভ হয়নি। অসহনীয় যন্ত্রণায় যতবারই শাশুড়িকে অভিযোগ করত, তিনি বলতেন, সহ্য করো গো মা। আমরা এর থেইকা অনেক বেশী কিছু সহ্য কইরা সংসার করসি। কার ঘরে নেশাপানি না হয়! পুলারা এমন একটু আধটু করেই। কি আর করা! মাইয়া মানুষের কপালই এমন।
নাজমা বেগমের প্রতিবাদ করার উপায় ছিলনা না। অবশেষে অনেক ছলা কলায় কলেজে পূনরায় ভর্তি হল। কাঠখড় পুড়িয়ে মোটামোটি মাষ্টার্স পর্যন্ত সম্পন্ন করে একটা চাকরিতে ঢুকল। ভাবল, আর্থিক সহায়তা পেলে হয়তো স্বামী এবং শাশুড়ি সবার কাছেই কিছুটা হলেও সহমর্মিতা পাবে। কিন্তু না। মানুষ যে স্বভাবের দাস!

দিন দিন শমশের আলী আরো উগ্র হয়ে উঠতে লাগলেন। অর্থ রোজগারের পুরোটাই তাঁর চাই। তাও মেনে নিল নাজমা বেগম। কিন্তু মানলনা শমশের আলী ও তার অর্থলোভী পরিবার। এক সময় তাঁর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন বেড়ে যাওয়ায় নাজমা বেগম প্রতবাদ করতে শুরু করল। নাজমা বেগম ভাবল, এক সময় উপায় ছিলনা তাই সব সহ্য করেছে। কিন্তু আজ উপায় আছে নিজ অধিকার প্রতিষ্ঠায় প্রতিবাদ করার। আর সেটাই হল কাল।  মেয়েকে নিয়ে ঘর ছাড়তে হল নাজমা বেগমকে।

এক অর্থে শমশের আলীর মা ঠিক বলেছেন। নারী শিক্ষিত হলেই সমস্যা। মেরুদন্ড সোজা করে দাঁড়াতে চায়। ন্যায়-অন্যায়, অধিকার নিয়ে প্রশ্ন তুলে। পৌরষদীপ্ত হাত গায়ে উঠার আগেই তা খপ করে ধরে ফেলে! ঘার মটকে দিতে চায় পরমেশ্বর স্বামীর।
কি ভয়ংকর কথা। যে স্বামী অন্ন-বস্ত্র-বাসস্থান দিয়ে নারীকে আশ্রয় দেয় নিজ ছায়ায়, সে স্বামীর প্রতি কি কোন কৃতজ্ঞতাবোধ নেই নারীর? এ ঘোর অন্যায়। নারী কেন ভুলে যায় পুরুষ হলো প্রভু, সে দাসী। যে পুরুষ তাকে আশ্রয় দিয়ে সমাজে পদবী দিচ্ছে, সে পুরুষের পায়ের কাছে কুকুরের মত লালা ফেলে হাঁটু গেড়ে বসে থাকাই তো নারীর কর্তব্য! না হয় দিল বুকে পিঠে কিছু লাথি, না হয় দিলনা ভালবেসে বুকে স্থান, তাতে কি!

নারী বড় অকৃতজ্ঞ।  নারীকে চিরকাল অন্ধকারেই রাখা হোক! অন্তত রাতের আঁধারে মশারীর তলে নেশাখোর পুরুষের ঝিমিয়ে পরা পৌরুষত্ব নিয়ে প্রশ্ন তো করবেনা!

নারী তুমি বড় বেহায়া। বড় লোভী। ভুলক্রমে ভুল করে এক ফালি আলো দেখলেই জ্বোছনা বিলাসী হয়ে উঠো! বেড়ার ফাঁকে এক চিলতে সূর্যরশ্মি দেখেই নতুন ভোরের স্বপ্নে বিভোর হও, তুমি ভুলে যাও তোমার অন্নদাতা কে! তুমি ভুলে যাও তোমার আশ্রয়দাতা কে!

শমশের আলীদের মায়েরা ভুল বলেনা! ঠিকই বলে।