অদ্ভুত মানুষ

পৃথিবীর মানুষগুলো বড় অদ্ভুত! তার থেকেও অদ্ভুত তাদের গতিবিধি। মানুষের মাঝে এত রহস্য, এত জটিলতা,এত অস্বাভাবিকতা…. !  মন যে কখন কোথায় উড়ে, কার নাটাই এর সুতোয় কারে বাঁধে, কখন ছিঁড়ে কারে জুড়ে…. সবই অস্বাভাবিক লাগে!
ভেবে ভেবে বেলা ফুরোয়।  ভেবে ভেবে চশমায় ধূলী জমে। ভেবে ভেবে কুমড়ো মাচায় ফুল থেকে জীবন বাড়ে। ভেবে ভেবে আঙুল সমান কড়ুই গাছটার তলে সুর্য ঢলে পড়ে। ভেবে ভেবে গোছা গোছা রেশমী কালো চুলে শুভ্র মেঘমেদুর খেলা করে। ভেবে ভেবে দুই পা থেকে চার পা, এমনি করে ছয় পা বাড়ে। তবুও যেন মানব স্বত্বার রহস্য উন্মোচন হয়না।
এখন ভালো আছি। একটু পরেই খারাপ থাকি। হাজার রজনী সুখ পালংকে কাটিয়েও ক্ষণিকে ছোঁইয়ায় এক পলকের মায়ায় পথে নামি। ভালবেসে ভালবেসে ফোসকা পড়ে গায়ে। তবু মন জানি কাকে খুঁজে! এই মন কিসের টানে কার খুঁজে দিবা রাতি হন্যে হয়ে ছুটে! পাশে রুপার থালায় ঝকঝকে আয়না রেখে কোন এক জোছনায় মধ্য রাতে এক ফালি আলো নিদারুণ আশায় কেঁদে মরে। এ কেমন রহস্য মানুষের বেঁচে থাকায়!
কাল ও মনে হত বেঁচে থাকায় কত আনন্দ! আজ কি হলো! বেঁচে থাকা এত বিষাদময় কেন?
আমার বিশাল আকাশ জুড়ে শুভ্রতায় ঘেরা। নানান রংয়ের বাহারি পাখিদের কিচিরমিচির শব্দ। মেঘমেদুর আমায় শীতল পরশে প্রাণ কেড়ে নেয়।
একি! তবুও কেন মন উড়ে! সেই যে বহু বছর আগে খেলার ছলে কোন একদিন হাতের চুরীগুলো ভেঙে গিয়েছিল, সে বছর যেদিন আচমকা ঝড়ে ঘরের টিনের চালা উড়ে গেল, সেই যে প্রথম বার, যেদিন লুকায়িত সম্পদে অনাধিকারে কেউ প্রবেশ করেছিল, আহা!
সেদিন কি মন কেঁদেছিল?  সেদিনও কি মন উড়েছিল? তবে আজ কেন এতটা বছর পর বার বার এই মন পিছু ফিরে কাঁদে?  সমুদ্রের ঢেউ তোলে দীর্ঘশ্বাসে বক্ষ দোলে দোলে কাঁদে!
মানুষ বড় অদ্ভুত। নিজেকে আজও সমস্ত খুঁলে দেখা হয়নি।  দেখার বড় ইচ্ছে ছিল।
জানার ইচ্ছে ছিল কোথায় এত আবেগের বাস! কি আছে ভিতরে!
ভেবে ভেবে ক্ষয় ধরেছে মস্তিষ্কে, অনন্তকাল ভেবেই যাচ্ছি।