নষ্ট কবি

ওরা বড় ভয়ংকর! ওরা সম্পর্ক বুঝে না। ওরা সম্পর্কের দেয়ালে  বিনি সুতোই যত্নে বুনা ভালবাসার চাদরটি ছুঁয়ে দেখে না। ওরা আসে ঝড়ের বেগে সম্পর্কে ভালবাসার আবেশ মাখিয়ে। রেশ কাটার আগেই আবার চলে যায়।সেই ঘোর কাটতে কাটতে বেলা বয়ে সন্ধ্যা নামে। সন্ধ্যার মুখে ধুপ জ্বলে, জ্বলে আরো কত কি!
ওরা বুঝে না, একেবারেই বুঝে না। ওদের ফিরে না দেখা, ওদের ভিন্নরুপ স্বচ্ছ আকাশকে বেদনায় নীল করে দেয়। ওরা বুঝে না! ওরা বড় ভয়ংকর। ওরা পৃথিবীর বুকে জেগে থাকে। জেগে জেগে ইতিহাসের মানচিত্র বদলায়। পালা বদল করে রূপে রূপে বহুরূপ বৃক্ষ-লতাদি কাঁদায়। কে দেখে তাদের এই অনাচার? কে বুঝে তাদের স্বৈরী বিলাসিতা?
ওরা বলে কষ্ট সব ওদের।ওরা ভালবাসার দামে কষ্ট কিনে।ওরা কষ্টের জন্যে নষ্ট হয়! ছারপোকার মত গুটি গুটি পায়ে অভ্যাস বশে ওরা ঘুরে বেড়ায় কাব্যের এ পৃষ্ঠা হতে ও পৃষ্ঠা! গন্ধ শুঁকে শুঁকে নিশ্চিত বসত করে নেয় ভাল লাগার কোন এক পাতায়। আবার ওরাই কাঁদে ভবের হাটে হেঁটে হেঁটে। একতারায় তুলে নিশীথে জেগে থাকা একাকী মানুষের করুণ আর্তনাদ। ওদের কাব্য রচনা হয় রোম নগরীর পোড়া কোন ধ্বংসস্তূপে চূড়ায়। নতুবা গ্রীক এর কোন পুরনো গল্প কথায়। ওরা আসে রহস্য নিয়ে, অচিন এক মোহে মায়ার বাঁধনে জড়িয়ে দেয় নিঃশ্বাস গুলো। নিঃশ্বাসে নিঃশ্বাসে নিঁপুন হাতে বিশ্বাস বুনে, তারপর আচমকাই আবার ওরা চলে যায়। যাওয়ার কালে বিশ্বাসের গলা টিপে নিঃশ্বাস টুকু নিংড়ে নিয়ে যায়।
কি যে যাতনায় মন কাঁদে তখন!
ওরা সত্যিই বড় ভয়ংকর। তবু ওরা পৃথিবীর বুকে বেঁচে থাকুক হাজার বছর। ওদের ছাড়া ইতিহাস জন্ম হবার নয়। ওদের ছাড়া পৃথিবী কাঁদেনা। ওদের ছাড়া কাব্য রচনা হয়না; হলেও তাতে প্রাণ থাকেনা। ওরা বড় আশান্ত ঠিক গর্জে উঠা ঢেউয়ের মত। ওরা বড় ভয়ংকর! তবু পৃথিবী ওদের প্রয়োজন বোধ করে।