হুমায়ুন আহমেদঃ খসে পরা এক নক্ষত্রের নাম

20072012122940amHumayun_Ahmed

 

হুমায়ুন আহমেদ নিঃসন্দেহে একজন প্রতিভাবান সাহিত্যিক। নিঃসন্দেহে বাংলার সাহিত্যাঙ্গনে হুমায়ুন আহমেদ একটি উজ্জ্বল নক্ষত্র। হুমায়ুন আহমেদের মত পাঠকপ্রিয় লেখক এই বাঙলায় আর জন্মেনি, ভবিষ্যতে জন্মাবে এমনটাও আশা করা যায় না।

বিভিন্ন কারণে এই অসাধার্ণ সাহিত্যিক সমালোচিত। হতেই পারে। আপনাকে ,আমাকে বা মজিদ চুরাকে নিয়ে তো কেউ সমালোচনা করবেনা। বিশেষ ব্যাক্তিবর্গকে নিয়েই করবে।

স্যারের যে বিষয়টি তার অনেক ভক্তকুলের মনেও কষ্টের জন্ম দিয়েছে এবং একি সাথে সমালোচনার সৃষ্টিকরেছে, তা হলো- গুলতেকিন এর সাথে তার বিবাহ বিচ্ছেদ এবং মেয়ের বয়সী শাওন কে বিয়ে করা!
স্যারের একজন ভক্ত হিসাবে আমিও বিষয়টাতে খুব কষ্ট পেয়েছি। আমি জানি গুলতেকিন ম্যাডাম শুরু থেকে স্যারের জীবনের উত্থান ও পতনের মাঝে কতটা মায়ার আঁচলে তাকে ঘিরে রেখেছিলেন।
কষ্ট পেয়েছি। কিন্তু একজন ভক্ত হিসাবে স্যারকে অসন্মান করার আমার কোন অধিকার আছে বলে মনে করিনা। তাই আমি সব সময় নীরব থেকেছি এ ব্যাপারটাতে। আমি স্যারের প্রতিভা দেখে তাকে ভালবেসেছি। স্যারের ব্যাক্তিগত জীবন নিয়ে আমার মাথা ব্যাথা নেই।

ব্যাক্তিগত হুমায়ুন আহমেদ কে ক’জন চিনে? কিংবা ভালবাসে? আমরা হুমায়ুন আহমেদ কে ভালবাসিনা। আমরা ” সাহিত্যিক লেখক হুমায়ুন আহমেদ ” কে ভালবাসি। তার বিশেষ চরিত্র হিমু, মিসির আলি, শুভ্র, রানু, মিলি, রুপা পরে পরেই তাকে ভালবাসতে শিখেছি। স্যার জনপ্রিয়তা লাভ করার পরই আমরা তাকে ভালবাসতে শিখেছি। যখন এক সময় স্যার মহসিন হলে থাকাকালীন কিংবা তারো আগে, স্কুল, কলেজ এর বেতন দিতে পারতেন না, বাড়ি থেকে বের করে দেয়ার পর গুলতেকিন ম্যাডামকে নিয়ে গাছতলায় রাত পার করেছিলেন, তখন কিন্তু আমরা স্যার কে ভালবাসিনি। কিংবা তাকে চিনার ও প্রয়োজনবোধ করিনি। তার মানে আমরা ব্যাক্তি হুমায়ুন আহমেদ নয়, আমরা সাহিত্যিক হুমায়ুন আহমেদ কে ভালবাসি।

তাহলে আজ কেন তার ব্যাক্তিগত রুচি বা কর্ম নিয়ে আমরা উঠে পরে লেগেছি ? আমি কিংবা আপনি কি ১০০% আল্লাহ পাকের দেয়া নির্দেশ মোতাবেক খাটি মুমিন বা ইমানদার ব্যাক্তি? আমাদের মাঝে কি লোভ-লালসা, জিনাহ-কিনাহ, অহংকার কিংবা সামাজিক অপরাধ মুলক কার্যের ছিটেফুটা নেই? যদি বিন্দুমাত্র ও থেকে থাকে, তবে অন্যের দোষ নিয়ে আলোচনা আমাদের মানায় না। যদি আমি ১০০% শুদ্ব না হই, তবে আমি স্যার এর সমালোচনা করার কোন অধিকার রাখিনা।
তিনি কেন মেয়ের বয়সী এক মেয়েকে বিয়ে করেছেন, তা তিনিই ভাল জানেন। আমাদের এত মাথা ব্যথা কেন?

এবার বলি শাওন এর কথা। অনেকেই বলেন আল্লাহ পাক বিচার করেছেন শাওন এর। অন্যের ঘর ভাঙ্গার কারণে বিয়ের ৭ বছরের মাথায় আজ তিনি বিধবা!
আচ্ছা বলুন তো, আল্লাহ পাক কি আপনার ,আমার মত নির্বোধ কেউ? অবশ্যই না। তিনি মহান। তাঁর গতিবিধি নির্ধারণ করার ক্ষমতা আমাদের কারো আছে কি?
আমরা মানুষ বলে প্রতিহিংসা বা জিদের বশবর্তি হয়ে অন্যের ক্ষতি সাধনে মগ্ন হই। তাৎক্ষনিক বিচারের আশায় আরো পাপ করে যাই। আল্লাহ পাক আমাদের মত অধৈর্যশীল নন। একটা লোকমুখে শুনা কথা আছে,
“এক নামাজী হাজার রাত তপস্যা করেও বেহেস্তে যেতে পারেননি । একটু ভুলের কারনে। কিন্তু এক বেশ্যা রাস্তার একটি কুকুরকে পানী খাওানোতে আল্লাহ পাকের সন্তুষ্টি আদায় করে ফেলেন। তিনি বেহেস্তে যান”!
কাজেই, শাওন কে বা স্যার কে অভিশাপ দিয়ে লাভ নেই। তাদের জীবনে হয়তো এমন কিছু পুন্য ও করে যেতে পারেন, যা আমাদের পুন্যের খাতা থেকেও ভারী হতে পারে।

প্রেম হয়ে যায় ! কখন, কবে, কোন বয়সে তা বলা বাহুল্য। সুশীল সমাজের অনেক ভদ্রবেশী ব্যাক্তিবর্গরাও রাতের আঁধারে যৌন পল্লীতে যাতায়াত করেন। তাদের কেউ দেখেনা।সমাজের ৯০% ছেলে মেয়েরা বিয়ের আগে প্রেম নামক রোগে ভুগে যৌন ক্রিয়ায় লিপ্ত হোন যা ইসলামে হারাম। পরকিয়ার মত ক্যান্সারেও সমাজের ৫০% মানুষ ভুগছেন।
তবে শাওন কে বিয়ে করাতে আপনাদের এত দুঃখ কেন? বৈধ করেই তো করেছেন।  নাকি ?

স্যারের শেষ যাত্রায়, প্রতিটা মুহুর্ত, নিউইয়র্কের হস্পিটালে শাওন পাশে থেকেছেন। ১ বছর এবং ৫ বছরের দু’টি শিশুকে একা অন্যের কাছে ফেলে ভিনদেশে পাগলের মত ছুটেছেন এ হস্পিটাল থেকে ও হস্পিটালে। স্যারের মল মুত্র পরিস্কার করা থেকে বমি কফ সব দু’হাতে কেচে স্যারের সেবা করেছেন!

স্যারের একটি উক্তি আছে, “যখন মানুষের খুব প্রিয় কেউ তাকে অপছন্দ, অবহেলা কিংবা ঘৃণা করে তখন প্রথম মানুষ খুব কষ্ট পায় এবং চায় যে সব ঠিক হয়ে যাক । কিছুদিন পর সে সেই প্রিয় ব্যক্তিকে ছাড়া থাকতে শিখে যায়। আর অনেকদিন পরে সে আগের চেয়েও অনেকবেশী খুশি থাকে যখন সে বুঝতে পারে যে কারো ভালবাসায় জীবনে অনেক কিছুই আসে যায় কিন্তু কারো অবহেলায় সত্যিই কিছু আসে যায় না।”

আরো একটি উক্তি করেছেন তিনি, “পৃথিবীর প্রতিটি মানুষই আলাদা। প্রতিটি মানুষের আঙুলের ছাপ আলাদা। একজন মানুষের আঙুলের ছাপ পৃথিবীর জীবিত বা মৃত কোনো মানুষের সঙ্গে মিলবে না। প্রতিটি মানুষের গায়ের গন্ধ আলাদা।
হরতন ইশকাপন-হুমায়ূন আহমেদ “

সর্বশেষে এই বলবো , হুমায়ুন আহমেদ স্যার এর আত্মার শান্তি হোক। আল্লাহ পাক উনাকে পরম শান্তিতে রাখুন। আমীন।