একাকীত্ব

সম্পর্কগুলো এমন কেন? হাজারটা রাত এক করেও যেন কোথাও এক ফুটো শূন্যতা থেকে যায়। সেই ফুটোতে মনের ঘরে ডুকে একাকীত্ব। কোন এক ক্লান্ত বিকেলে বা একাকী মন খারাপের রাতে সেই একাকীত্ব যেন ভিতরটা আরো ভেঙ্গে চুরমার করে দিয়ে যায়। একলা ঘরে মন খারাপের রাতে কেন আলো দেখাতে কারো স্পর্শের তীব্রতা টের পাইনা?

তবে কি ক্যাথেরিন হেপবার্ণ ঠিকি বলেছিলেন? প্রত্যাশার সাথে প্রেমের কোন সম্পর্ক নেই?

নাকি সম্পর্কগুলো এমনি হয়, একটা সীমা রেখার পর সামনে বাড়ার কোন উপায় থাকেনা?

অদৃশ্য এক দেয়ালে যেন কিছু একটা আড়াল করা। এরই নাম হয়তো একাকীত্ব। সম্পর্কের মাঝে এই একাকীত্বর জন্ম আদীকাল ধরে। এটা কি সম্পর্কের ব্যর্থতা নাকি মানুষের, ঠিক জানা নেই।

নিজেকে অসম্পূর্ণ লাগে আজকাল। হাজারো সুখের ভিড়ে কোথায় যেন একটু অসুখের ছোঁয়া পাই। হাসির আড়ালে শুনি করুন বাশীর সুর! কোলাহল এর ভিড়েও একাকীত্ত্ব। সব আছে, কি যেন নেই ! ভালবাসা আছে, বিশ্বাস নেই, বন্ধু আছে, বন্ধুত্ব নেই। রাত আছে ঘুম নেই, আমি আছি, ভিতরের স্বত্ত্বাটুকু নেই।!

অন্যকে দোষী করা বোকামী। আজকাল কোনো সম্পর্কই ঠিক মত পালন করতে পারি না। সবার মাঝে থেকেও কেমন আলাদা ! সব থেকেও কেমন বিচ্ছিন্ন।  বন্ধুত্বের দাবী, সংসার-ভালবাসার দাবী আমাকে মানায় না। কোন কিছুই সমান্তরালে টেনে নিতে পারিনা। মাঝ পথে এসে আটকে যাই। চলতে গিয়ে হুঁচট খাই। উঠতে গিয়ে পড়ে যাই। দিন দিন কেমন জন মানবহীন অরণ্যে হাড়িয়ে যাচ্ছি।

এখন আর কোলাহল ভাল লাগেনা। কেমন ঘর কোণো হয়ে যাচ্ছি। কারো শব্দ কানে জ্বালা ধরায়। কারো দৃষ্টি চোখে বিষ ছড়ায়। সম্পর্ক গুলো বড় আজব! সুতোয় সুতোয় গাঁথা ভালবাসার ফুলগুলো ও এক সময় অসহ্য লাগে। ভাবি, জীবন থেকে কতটা দূরে সরে গেলে এমন একাকী লাগে!  কতটা স্বার্থপর হলে একলা রাতে রবীন্দ্রনাথ এর গানে চোখে পানি আসে?

কতটা অভিমানী হলে কোলাহল ছেড়ে একাকীত্ত্বর সাথে হয় সখ্যতা ?

কতটা বধির হলে কান্নাগুলো জড়ো হয় গলার কাছটায় ?