বদলে যাই

মানুষ কারণে অকারণে বদলায়। প্রয়োজনে অপ্রয়োজনে বদলায়। সকালে বদলায়, বিকেলে বদলায়। আলোতে বদলায়, আঁধারে বদলায়। বদলে যাওয়া মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি। বদলে যেতে কোন কারণ লাগেনা। প্রকৃতির গতানুগতিক প্রক্রিয়ায় মানুষ বদলে যায়।

দুঃখবিলাসী মানুষগুলো সে বদলে যাওয়াকে মেনে নিতে পারেন না। আর তাই তারা অভিযোগ তুলেন। প্রশ্ন তুলেন। কাছের মানুষটি কেন এমন হঠাৎ বদলে গেলো, তা নিয়ে শোকগাঁথা রচনা করেন।
আসলেই কি মানুষ হঠাৎ করেই বদলে যায়?
নাহ! হঠাৎ করে কিছু বদলায় না। মানুষের এই বদলে যাওয়ার প্রক্রিয়া অনেকদিন ধরেই চলতে থাকে। এত ধীরে ধীরে চলতে থাকে যে, আমরা বুঝতে পারিনা।

কখন, কিভাবে, মানুষগুলো বদলাতে শুরু করে তা হয়তো সে নিজেই জানেনা। পরিবর্তন আসে, কখনো সময়ের সাথে নিজেকে খাপ খাওয়াতে । কখনো পরিবেশ বাঁচাতে । কখনো বা চাহিদার কারণে।

কারণ যাই হোক, বদলে যাওয়া … একজনের জন্য মঙ্গলকর হলেও, অন্যের জন্য তা হয় ভীষণ পীড়াদায়ক।

এক সময় যে মানুষটা দিন রাত গায়ে গায়ে লেগে না থাকলে ভাল লাগতোনা, এক মুহুর্ত কথা না শুনলে মনে হতো শত বছর পিছিয়ে যাচ্ছে, যার প্রতিটা চলন-বলন সাবলীল দৈনন্দিন জীবন-যাপন এক সময় প্রাণে দোলা দিয়ে যেত, হঠাৎ করেই যেন সে মানুষটা খুব বিরক্তিকর হয়ে উঠে। কেন যানি তার প্রতিটি নিঃশ্বাস দেহের অনুতে অনুতে জ্বালা ধরিয়ে যায়! মনে হয়, সহ্য হচ্ছে না আর! কিছুতেই যেন নিজের সাথে মিলছেনা। কোথায় যেন একটু ফাঁক থেকে যাচ্ছে। আর সেই ফাঁকে সময়ে অসময়ে হু হু করে ঢুকে যাচ্ছে বিষাক্ত বাতাস।

এ সবই কেবল আমাদের বিক্ষিপ্ত মনের যাতনার বহিঃপ্রকাশ।

মনের সচরাচর বাস কোথায়? কেউ কি বলতে পারে? বেদ অনুযায়ী মনের আসক্তি যদি কেবল সংসারে হয়, তবে মনের বাস কোথায়? মহাবিশ্বের বাস যদি মনে হয়, তবে মনের বাস কোথায়?

কবি গুরু রবীন্দ্রনাথ তার মনের বিস্তার দেখেছিলেন অসীম শুন্যে।
বিদ্রোহী নজরুল তার দ্রোহী মনের রঙ রাঙিয়ে গিয়েছিলেন পলাশ জবা অশ্বথের বনে।
লালন বলেন, “মন তোর আপন বলতে কে আছে?”

প্রিয় মানুষগুলো হঠাৎ করেই বদলে যায়। সুখের মুহূর্তগুলো হঠাৎ করেই নাগালের বাইরে চলে যায়। প্রক্রিতির সাথে একাত্ব খাওয়া মানুষগুলোও প্রকৃতির আদিম খেলায় ভেসে যায়।

প্রতিদিন আমি দেখি, মানুষের বদলে যাওয়া ! দেখি কি বিচিত্র কারণেই না সম্পর্ক বদলে যায়।

আমিও প্রায়ই বদলে যাই। ভীষণ আঁধারের কোল ঘেঁসে উদীয়মান রাতের চাঁদটুকু দেখে অকারণেই মনের ভীতরটা বদলে যায়। বুকটা হু হু করে উঠে। চোখ ফেটে যায় গভীর অভিমানে।

জীবন এমনই । বড় রহস্যময়। সব রহস্যের সমাধান পৃথিবী আজও করতে পারেনি। পারবেও না।