স্যারট্রালিন

সিরোটনিন নিউরোট্র্যান্সমিটার সংযোগ স্থাপনে;
ব্যর্থ অবশেষে
মস্তিষ্কের কোষ হতে কোষে, ছিটকে পড়ে বার্তা প্রেরণ শেষে
সংযোগ বিফলে কেড়ে নেয় সুখ,
অসুখে মস্তিষ্ক ফুলেফেপে ধরাশায়ী
উদ্বেগ দিন দিন সরু পথে ঢুকে পড়ে কোথাও
সীমাহীন গন্তব্যে বিস্তৃত সে অসুখ
জায়গা করে নেয় অবস্থানে দেহে
নিরুপায় মানুষ হায়
আমারই মত খুঁজে চলে আশ্রয়! অতপরঃ
সমাধানে চিকিৎসক লিখে দেয় কাগজে
স্যারট্রালিন- প্রতিদিন,
ভুল যেন না হয় একটি দিন।

রাসায়নিক বিক্রিয়া নিদারুণ বিশ্বস্ততায় টেনে ধরে হাত
ভারসাম্য রক্ষায় সকাল হতেই ছুঁয়ে যায় ঠোঁট;
ম্যারাথন চুম্বনে
আবেশে মগজ ঘুমিয়ে পড়ে, চুপচাপ
ভাবনা নেই পৃথিবীর কোলে শুয়ে থাকার আজ
স্যারট্রালিন- দখল করে নেয় আমায় প্রতিদিন।

ফুঁসে উঠা ক্রোধ নিভে আসে ধীরলয়ে
কুকুর কামড়ে দেয় যখন তখন
মনে হয়,
দন্তযুগল কি নিঁখুত কারুকার্য রেখে যায় দেহে!

বিক্ষিপ্ততা সম্মিলনে সমঝোতা হেঁটে যায় মগজ বরাবর
শিরায় শিরায় বিস্ফোরণ আর হয়না,হয়না
আজ আর মগজ গলে উন্মাদনা; শরীর ছোঁয়না
স্যারট্রালিন- দখল করে নেয় আমায় প্রতিদিন।
একদিন এমনি সমঝোতায় হেরে যাবে প্রাণ
এক সকালে, ঠিক কয়েক বছর পর
স্যারট্রালিন খেয়ে যাবে আমার মস্তিষ্ক
হৃদয় হতে ব্যথা মুছে দিবে মাত্র নিমিষেই
কিন্তু আমি কখনই ভুলে যাব না,
আমি ভুলব না সে নির্যাতন
সব দিক থেকে নিজেকে বন্ধ কামরায় নিক্ষেপ
ফাঁকা-শূন্য এবং একা
কোথাও একটি অন্ধকার বাক্সে সীমাবদ্ধতা
আমার অবচেতনতার প্রান্তিক প্রান্তে কেবল নীরবতা!

স্যারট্রালিন,
আমার বিষন্নতাকে অবলীলায় চেয়ারে বেঁধে দিতে পারে
কিন্তু এর উপস্থিতি, অস্বীকার করতে পারেনা।