সন্তানকে অনলাইনে পড়াব, নাকি স্কুলে পাঠাব

সন্তানের ভবিষ্যৎ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া, সচেতনতামূলক অভিভাবকত্ব মা-বাবার দায়িত্বের আওতায় পড়ে। তবে, করোনা মহামারি ইতিমধ্যেই বাবা-মার সিদ্ধান্তকে পরীক্ষায় ফেলে দিয়েছে। আজ একটি বিশাল সিদ্ধান্ত তাঁদের ওপর এসে দাঁড়িয়েছে—‘আমি কি সন্তানকে ইনপারসন শিক্ষায় পাঠানোর ঝুঁকি নেব?’

কোভিড-১৯ মহামারির কথা আসলেই চলে আসে বাবা-মাদের সংগ্রামের কথা। এ সময়ে সন্তানকে স্কুলে পাঠানো কিংবা রিমোট লার্নিংয়ে রাখা—কোনোটার সঠিক উত্তর তাঁদের জানা নেই। তাঁদের কাছে মনে হতে পারে, কোনো উত্তরই সঠিক নয়। চারপাশে বিতর্কিত মতামত চলছে। পরামর্শের জন্য তাঁরা কাকে বিশ্বাস করবেন, তা নির্ধারণ করাও কঠিন।

যদিও যুক্তরাষ্ট্রের স্কুলগুলো মহামারির কারণে গত দেড় বছর ধরে দূরদর্শিতার সঙ্গে বিকল্প হিসেবে রিমোট লার্নিং পদ্ধতি চালিয়ে গেছে।

ইনপারসন লার্নিং শিশুদের মধ্যে ভালো সংযোগ তৈরি করতে সাহায্য করে। শৈশব একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়। এ সময় শিশুরা প্রতিদিন নতুন কিছু শেখে। অন্যদের সঙ্গে বন্ধুত্ব স্থাপন এবং বিকাশ শিশুদের তাদের সম্পর্কে আরও জানতে সাহায্য করে। তাদের সহানুভূতিশীল হতে সাহায্য করে এবং মানসিক চাপের সঙ্গে মোকাবিলা করতে সাহায্য করে।

আমরা জানি, সরাসরি সংযোগ শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যের একটি বিশাল উপাদান। প্রাপ্তবয়স্কদের মতো শিশুদের মানসিক ক্রিয়াকলাপ, অন্যের সঙ্গে মিথস্ক্রিয়া, বাইরের খোলা আবহাওয়া এবং স্বাস্থ্যকর খাবার তাদের মানসিক স্বাস্থ্য বজায় রাখে।

আমেরিকান অ্যাকাডেমি অব পেডিয়াট্রিকসের মতে, ‘শিশুরা স্কুলে শিক্ষার বাইরে আরও অনেক বেশি কিছু পায়। তারা স্কুলে সামাজিক ও মানসিক দক্ষতা শেখে, স্বাস্থ্যকর খাবার এবং শারীরিক ব্যায়াম পায়, মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তাসহ অন্য পরিষেবাগুলো পায়। যা অনলাইনে সহজে পাওয়া যায় না।’

অন্যদিকে গবেষণায় দেখা গেছে, রিমোট লার্নিং শিক্ষার ফলে স্কুল বয়সী শিশুদের মধ্যে উদ্বেগ, হতাশা এবং আত্মঘাতী চিন্তা ভাবনা বৃদ্ধি পেয়েছে।

ইনপারসন শিক্ষায় শেখার বিভিন্ন ধরন থাকে। তেমনি প্রতিটি শিশুর আলাদা শেখার ধরন আছে। শেখার এই শৈলীগুলো চারটি ভিন্ন বিভাগে বিভক্ত করা হয়। যেমন—

ভিজ্যুয়াল: এখানে শিক্ষার্থীরা পাঠের বিষয়বস্তু সম্পূর্ণরূপে বুঝতে শিক্ষকের দেহের ভাষা ও মুখের অভিব্যক্তি দেখতে পারে। ভিজ্যুয়াল ডিসপ্লেগুলো যেমন-ডায়াগ্রাম, সচিত্র পাঠ্যপুস্তক, ভিডিও, ফ্লিপ চার্ট, হোয়াইট বোর্ড ব্যবহার থেকে ভালো করে শিখতে পারে শিক্ষার্থীরা। একটি পাঠ বা শ্রেণিকক্ষে আলোচনার সময় চাক্ষুষ শিক্ষার্থীরা তথ্য সংগ্রহ করে বিস্তারিত নোট নিতে পারে।