শীতের আমেজ

ভোরের কাঁচা রোদে কুয়াশার চাদর মুড়ে
ঘুমঘুম আলসে বালিকা শিশির ভেজা কচি ঘাসে
ঢেলে দেয় মায়াবী রোদ
প্রভাতী হাওয়ায় সরিষার ঘ্রাণ, হলদে চাদরে রঙ্গিন কারুকাজ
প্রজাপতি উড়ে যায় মটরশুঁটি ডালে;
যেখানে জলমোতি টুপ করে খসে পড়ে জমিনে।

 

বাহারী ফুলের সৌরভে আড়মোড়ায় উঠে ডালিয়া,
গাঁধা, কৃষ্ণকলি
আলসে বালিকার বুক জুড়ে কষ্টনীলায়
হলুদ-গোলাপি সুখ বার্তা নিয়ে উকি দেয় দশবাইচন্ডী।

 

এমনি পৌষের মিষ্টি রোদে জলেভাসা চরে অতিথী পাখি
ডুবচরে পাতিহাস, ডাহুক বকেদের সারি
মাছ ধরার ছলে হাঁটুজলে গ্রামের দুরন্ত কিশোর কিশোরী
আহা! এ যেন আলসে বালিকার নতুন রুপ;
শুভ্রতায় জলের বুকে প্রকৃতির বহুরুপ।

 

এমনি চাদরে ঢাকা প্রাতে কৃষানী বৌ ঘোমটা টানে
উঠোন কোণে জ্বলন্ত উনুনে আতপচালে খেঁজুর গুড়-
নারিকেল কোরানো
কতক ঘুম ঘুম চোখ উনুনে হাত পেতে উষ্ণতায় আলস্য কাটায়
ধোঁয়া উঠা ভাপা, চিতুই, কুলি, পুলি বাহারী পিঠায় উদরপূর্তি
খেঁজুর গাছের আগায় ঝুলে রসের হাড়ি
এমনি করে হেমন্তের নবান্ন শেষে শিরীষের পাতা ঝরা শীত;
মমতায় বেঁধে দেয় গ্রাম বাংলার সকাল।

 

শীতের কনকনে আমেজ সোনালি ধানের আভায়
কৃষকের মনে লাগে দোল
গায়ের বধূ উঠোনে শুকায় সদ্য তোলা আমন ধান
গেরস্ত বাড়িতে ঢেঁকিতে চিঁড়ে কোটার ধুম
সকালের মিষ্টি রোদে খেঁজুর রসে ভেজা চালের মুড়ি, মোয়া
সুস্বাদু রসনাভোজনে বারান্দায় চট পেতে বই খাতা হাতে বসসে
গাঁয়ের শিশু
শীতের সরলতায় এমন করেই শুরু হয় গ্রাম্য সকাল।

 

যুবক-পৌঢ় স্কুল মাঠে খড়-কাগজে আগুন জ্বেলে ছেকে নেয় হাত
মোড়ের চায়ের দোকানে জমে উঠে আড্ডা
হাট-বাজারে তাজা সবজির বেচাকেনায় কারো খুশি মুখ
মাটির উনুনে খড়ি পুড়ে কৃষানীর লাজুক মুখ;
সন্ধ্যার কুপির আলোয় আলোকিত করে যায় গ্রামের আঁধার।

 

জ্যোৎস্নার আলোয় গ্রামের মাঠে জমে
মুর্শিদি মারফতি গানের আসর
কবিয়ালদের ঢাক-ঢোলক ছন্দে মুখরিত মধ্যরাত
গায়ের রাখাল বধূর ঘোমটা টেনে গাছের আড়ালে লাজুক হাসি
আড়চোখে দেখে নেয় রাখাল যুবক।

 

এমন ঝাঁক বেঁধে পাখীদের উড়ে চলা
মেঠোপথে শিশুদের রিং হাতে দুরন্তপনা
বৃক্ষলতার ফাঁকে কুয়াশা মাড়িয়ে সূর্যরশ্মির দস্যিপনা;
শীতের মনোরম সকালে গ্রামের সোঁদা মাটির ঘ্রাণ;
কেবল আলসে বালিকার সান্নিধ্যেই অনুভব হয়।