রাই কিশোরী

এখানে রাই কিশোরী আধো ঘুম আধো জাগরণে
অপেক্ষার পথ চেয়ে, হেমন্তের শুভ্রাকাশে
উড়ে যায় শঙ্খচিল বিলের বুকে টলটলে জল ছুঁয়ে
উড়ে যায় কুয়াশা বিরহী আঁচল বিছিয়ে
রাই কিশোরী তবু আধো ঘুম আধো জাগরণে।

বিধু সেথায় বিরহী সুভাস ছড়ায় তমঃ গগন জুড়ে
শুষ্কপল্লবী হয়ে তার বুকের জমিনে রাই
ঘুমের ঘোরে শিশির হয়ে নোনাজল ঝরে।
কপোলে তার নক্ষত্রের ছায়া
মায়ার পাড় ভেঙে চলে মৃদু পায়
অশ্বথের শাখে হেমন্তের মারুত,
গ্রহন লাগায় রাই কিশোরীর গায়!

নিদ্রালস আঁখির পরে জলোচ্ছ্বাস ত্বরিত বেগে
যেন আঁধার তলে গুপ্ত হয়ে রাই যাবে লুপ্ত হয়ে
যেন ভোর হলেই কুয়াশার চাদরে বৃক্ষের নৃত্যতাল
বিষাদের অলস দেহে মেটে জোছনা যাবে ধুয়ে।

প্রেম নয় তবু প্রেমেরই মত,
ঘুমের কোলে মাথায় বালিশ চেপে বিরহী আকাশতলে
একটি নক্ষত্র আসবে বলে,
জলের সাথে জলের সঙ্গমে; চুপি চুপি ডুবে যায় জ্যোৎস্না।