জন্মের রহস্য

 
জীবনের প্রয়োজনে ছুটে ছুটে যখন আমরা হয়রান
তখন প্রশান্তির জন্য নির্দিষ্ট একটি মাথা গুজার ঠাঁই খুঁজি!
কখনো সেটা আরামদায়ক শয্যা, কখনো প্রিয় কারো কোল!
বিশ্রামাগারে শুয়ে হঠাৎ ভাবুক মনে প্রশ্ন জাগে
জানালার পাশে উঁকি দেয়া আকাশের দিকে তাকিয়ে,
অনুসন্ধানী চোখ জন্মের কারণ খুঁজে;
আমাদের জন্মের কি কোন উদ্দেশ্য আছে?
না’কি উদ্দেশ্যহীন বিদ্রুপেই আমাদের জন্ম?
 
একটি গাঢ় বিশ্বাস আমরা হৃদয়ে ধারণ করি
জাগতিক সকল পরিণামের পিছনে একটা কারণ খুঁজি
একটি অদৃশ্য শক্তিকে ভেবে হোঁচট খাই; যা দেখা যায়না।
 
অদেখা একটা জগতে প্রবেশের ভয়ে আতংকিত হই
নিরাকার ঈশ্বরের আশীর্বাদ আদায়ে মন ব্যাকুল হয়
ধীরে ধীরে অদৃশ্য শক্তি শিকর মেলে ছড়িয়ে পরে আত্মার গভীরে।
 
জাগতিক মোহ ভেঙ্গে দেখি তারায় তারায় ঘর্ষণে বিদ্যুৎ চমকায়
আঁধারে ডুব দিতে দিতে দেখি,
রুপালী আলোয় ঝলমল করে ধার্মিকতার শান্তি ও গাঢ় চুম্বন!
ঈশ্বর তার পবিত্র রহস্য আড়ালে রাখেন;
রহস্য অনাবৃত্ত করতে আমরা বিশুদ্ধতার অতলে ডুবে যাই
আবার ভেসে উঠি নতুন কিছু রহস্য নিয়ে!
ঈশ্বর তবু নিরাকার আড়ালে সচল।
 
তার মহিমা ও অপার সৌন্দর্য্যকে ছুঁতে,
শান্তি চুক্তিতে ঝড়ের তান্ডব থামিয়ে দেই
নামহীন কিছু অস্পৃশ্য ছায়া সুক্ষ্ম অনুগ্রহে আমাদের পাশ কাটিয়ে যায়!
আমরা বিস্মিত হই! ভাবি, কে গেল?
আমরা তাদের দেখিনা, তারা অদৃশ্যে যায় আসে
তাদের স্পর্শ যেন তুষারের উপর তুলোর আস্ফালন।
 
স্বর্গের অজানা প্রশান্তি,
আমাদের জাগতিক আনন্দ-ব্যথাকে ঐশ্বরিক মলমে উপষম করে দেয়!
অদ্বিতীয় ভাবনায় শরীরের রক্ত হিম হয়ে আসে
নিজেকে রক্ষা করতে করজোড়ে ক্ষমা ভিক্ষা চাই
মনে হয়, ঈশ্বররুপে অশরীরি কেউ সব দেখছেন!
 
জন্মের রহস্য, একটি রহস্য হয়েই থেকে যায়
রহস্য উন্মোচনে কেবল আমরা হারিয়ে যাই; জনবহুল পথে
কখনো কন্টকময় পথে!
হারিয়ে যেতে যেতেও রহস্য কাটেনা,
নিরাকার ঈশ্বর নীরব থাকেন, আমাদের উত্থান-পতনে চিন্তিত হোন
তবু, জন্মের রহস্য তিনি, আড়াল করেই রাখেন।
 
অবশেষে,
বিনাশ দুয়ারে স্থবির,
তার ভয়ংকর খরখরে হাতের স্পর্শ আমাদের জানান দেয়;
রহস্য উন্মোচনের সময় এলো!