মৃন্ময় ৬৮

একি আকাশের নিচে তুমি-আমি
অথচ যোজন যোজন দূরে!
কারো সাথে কারো দেখা নেই, স্পর্শের আকুতি নেই
শুধু অনুভবে বাতাসের গায়ে দীর্ঘশ্বাস ছুঁড়ে দেয়া।
 
তুমি জানো, আমিও জানি
ভালোবাসা লেপ্টে যায় বিরহী চোখের জলে
তবু নোনা জলে ডুব সাঁতারে; ডানা ঝাপ্টে বাঁলিহাস।
মৃন্ময়,
তোমাকে দেখার অপ্রাপ্তি নিয়ে;
কোন একদিন বৃদ্ধা হয়ে গেলে ক্ষতি কি?
 
তুমি জানো,
মধ্যরাতের ঘুমন্ত আঁধারের কোলে
একটি নির্ঘুম নক্ষত্র অহর্নিশি জ্বলে
একই আকাশের নিচে তুমি-আমি,
তবু সুযোগ বুঝে প্রেমের কথা হয়না বলা!
আকাশের বুকে ঝড়ো হওয়া মেঘেদের নীরবতায় বুঝে যাই
তোমার বুকে আজ নীল জলের লহরী
ওদিকে সমঝোতায় তুমি পারদর্শী;
এদিকে আমি মরে যাই।
 
মৃন্ময়,
তোমাকে ছোঁয়ার আকাঙ্খা নিয়ে
কোন একদিন বৃদ্ধা হয়ে গেলে ক্ষতি কি?
নিঃসঙ্গতার গায়ে জড়িয়ে থাকা মৃত্যুর শীতলতা
বুকের বামপাশে বিশুদ্ধ নীল জল হয়ে রয় চিরভাস্কর
একি আকাশের নিচে তুমি-আমি,
তবু বিরতিহীন উপাসনায় ক্রমশ গাঢ় হয় অন্ধকার!
ভুল আদরের ক্ষতে অনুশোচনার প্রলেপ জুড়ে
চোখের কোণে কাজল টেনে ঘুমিয়ে পড়ি!
মৃন্ময়,
চুপি চুপি চোখের জলে কষ্ট তাড়িয়ে;
কোন একদিন বৃদ্ধা হয়ে গেলে ক্ষতি কি?