মন্টুর ময়না বু

 
কাদা মাটি জলে শত শত পিপীলিকা
এদিক-ওদিক দিশেহারা হয়ে ছুটে
করোটিকার আটটি হাড় ছেঁদ করে
বুলেটটি ঢুকে যায় নির্দ্বিধায় মগজে
মৃত্যু যুদ্ধে নির্বিকার মৃত চোখগুলো তখনো,
আকাশের বুকে ঈশ্বরকে খুঁজে।
 
নয় বছরের শিশু ক্ষেতের আল ধরে
জোনাকি পোকার গুঞ্জনে সুবিশাল বক্ষতলে
হাতের তালুতে ঘুরছে লাটিম
সে কি জানতো পা ঘেঁষে থাকা সবুজ সম্পাতে
আদিত্যকে ছিনিয়ে আঁধার শেষে
শুয়ে পড়বে রাতের কোলে?
 
পড়ে ছিল এঁটো থালা রসুইঘরে
কতক আরশোলা খেয়েছে তারে খুটেখুটে
হুঁল ফুটানো শত ছিদ্রের বসন জুড়ে
লাল রঙা কারুকাজ ফিকে হয়ে আসে
গোলা হতে মুখ তুলে তখনো শিশুটি;
ঘোর লাগা শঙ্কা নিয়ে ভাবে,
লাটিমটি তার গেল কোথায়!
 
ডুবে ডুবে ভেসে উঠে জলজ উদ্ভিদ
তারও নিচে শিকড় আঁকড়ে চাপা পড়া;
মৃত ভোর
সে জানতো না
আঁধার রাত্রির গোপন সঙ্গমে
সোনারোদ মুখ লুকিয়েছিল
জলের বুকে ভাসমান তার
কি প্রয়োজন ছিল বলো,
বহুবর্ষজীবী হবার?
 
মাথার উপর ঘুরপাক খায় বিকট শব্দ
নির্লজ্জের মত সারাক্ষণ
রসুইঘর
এঁটো বাসন
ডোবায় ডুবে যাওয়া বেলা
সিঁড়ি বেয়ে উঠে আসে সিনা বরাবর
মাথার ভিতর বোমারু বিমানের বিকট শব্দে;
প্রতিদিন মধ্যরাতে জেগে উঠি
শহস্রাব্দের নিষ্ঠুরতায়,
আমি ঘুমাতে পারিনা।