‘বিশেষ মানুষ’ কারা?

একুশ শতাব্দীর শূন্য দশকে দাঁড়িয়ে যখন কেউ সাহিত্য সমালোচনাকেব্যক্তিগত আক্রমনবলে ভেবে নেন, তখন গোলকধাঁধায় পড়ে যাই। সংঙ্কিত মনে চেয়ে দেখি জ্ঞান শূন্য, বিশাল এক দেহ নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা আমাকে। প্রতীচ্যের সাহিত্যতত্ত্ব খুঁটিয়ে দেখেদেখে প্লেটোর সাহিত্যতত্ত্বের প্রতি আগ্রহ বেড়ে যায়।

কর্ভিডি গোত্রেরবিশেষ মানুষকাকের সংখ্যা পরিমাপের কোন নাম্বার সংখ্যা বা ওজন যন্ত্র নেই। তারাও নিশ্চিন্তে পথে ঘাটেনোংরাআবর্জনা খুঁটে খেয়েইবিশেষহয়েছেন। যেহেতু প্রাণির জন্মগত সহজাত প্রভৃত্তি মানুষের ক্ষেত্রে সহজাত নয়, তাইবিশেষমানুষকাকেরাও এখন কাকের মাংস খায়। সেই কর্ভিডি গোত্রেরবিশেষ মানুষকারা? ভাবার বিষয়।

সব অঙ্কই সংখ্যা কিন্তু সব সংখ্যা অঙ্ক নয়।

পথের ঐক্য না খুঁজে মতের ঐক্য খোঁজা মানুষ আমরা। সত্য বলি তো, এখনো মানুষ হতে পারিনি। এখনো পথের ঐক্যের সংজ্ঞাবুঝতে পারিনি। বুঝতে চাইও না। কেননা, আমরা নিজের মতের ঐক্যেই নিজেকে বিশ্ববাসীর কাছে উপস্থাপন করতে স্বাচ্ছন্দবোধকরি। নিপুন কারুকার্যে  শিরোনামে আসা আমরা, মেধাজ্ঞান অমূলক; রুপরঙে প্রকৃতি সাজাতে জানি। পানি গিলে উদরপূর্তি শেষে প্রমান রাখি অরেঞ্জ জুসের।প্রোফাইলে শেরাটনের কোটটাই পলিশিংয়ে স্থায়ীত্ব ফ্লোরে ক্লোরেক্স এর পরিমান বাড়িয়ে দেই।আমরা হচ্ছি সেই বাহ্যিক নির্মল স্বচ্ছ ফল্গুধারা, যার অন্তরালে কালো কুচকুচে বিষাক্ত রস নিত্য উথাল পাথাল করে। কখন কারনার্ভ ফুটো করে রস ঢুকিয়ে দিব, সেই তালে সারেগামাপা রপ্ত করি প্রতি ভোরে।

বলা যায় অনেকটা কলার মত, দুই দিয়েই ছিঁড়ে মুখে ঠাসা যায়। ট্রেইনগাড়িতে আমাদের আগে, অন্যের গা ধাক্কা দিয়ে জায়গাকরে নিতে পারেনা কেউ। বুঝে নিতে হবে, মানুষ হতে আর কি বাকি!

জ্বলছে শহর। জ্বলছে ভিতর। জ্বলুক না। ক্ষতি কি! আমরা আমরা তো! অচেতন মনে সত্য অস্বীকার করা, তেমন কি!

–এইচ বি রিতা