প্রসূতি

এক সমুদ্র জলরাশি চোখের কোণে তখনো স্থবির
ইন্দ্রিয় সচল দৃষ্টিপাত বরফ শীতল,
রুদ্ধ কারায় মহাপ্রস্থানের অপেক্ষায় বন্দিনী
এক জীবনের সমাপ্তি
অনাকাঙ্ক্ষিত যাত্রায়;
কিছু ব্যর্থতা, কিছু প্রাপ্তি।

 

রাষ্ট্রীয় দণ্ডবিধিতে দণ্ডিত,
সামাজিক অপরাধে আলোচিত; নয় বিবেচিত
তিনি রুক্ষ, নিশ্চিত শ্রেষ্ঠ
তিনি একজন প্রসূতি।

 

প্রসূতির বুকের গহীনে বিশাল একটি নীল পাথর
পিচ্ছিল শ্যাওলা জমা পথ; স্তুপাকারে কষ্টের প্রলাপ
বুকের অনাবাদী জমিনে রক্তনদীর লহরী
রাষ্ট্রীয় আইন ডুবেনি সে জলে,
ডুব সাঁতারে কেবল অবুজ কুমারী
বারো পেড়িয়ে তেরো
প্রগাঢ় ক্লেশে কুমারী নিরাশ্রয় একা;
কি আসে যায় কারো!

 

মধ্যরাতে অশুভ সংকেত
জড়সড়ো কুমারী কাঁপে নিষ্ঠুর সাইক্লোনে
ত্রিবিষে হিতাহিত অজ্ঞান, কুলুষে কলব জরাগ্রস্ত
অতৃপ্ত জনক কুমারীর বস্ত্রহরণে তৎপর হলে
নিষ্ঠুর এক আঁধারে ঢেকে যায় জোছনা!

সহসা প্রসূতি ত্রিশূল হস্তে মহামায়া রুপে,
কুমারীর সম্ভম হেফাজতে প্রবিষ্ট
ধরাশায়ী হয় পাপী
বুকের ভিতর বুদবুদ আগুনে চুক্তির উচ্ছেদ ঘটে।
কুমারী তখনো সজোড়ে মমতার পিঠ খামছে;
অহেতুক ক্রন্দনে ভীত
প্রসূতি জানায় অভয়; কুমারীকে বুকে টেনে!

 

বিনাশ সন্নিকটে,
পরিতাপ কিঞ্চিৎ হৃদয়পটে
কুমারী ভাবে,আহা!
প্রসূতির বুকের ভিতর অশ্রু বর্ষণ কেমন শব্দ ভাঙে
নির্মল মুখটি তার কতনা যতনে
সুপ্ত শোকে রক্তশূন্য; ধবল ফ্যাকাশে!

 

রাষ্ট্রীয় বিধি বিচ্ছিন্ন কাঁটাতারে
মানবতা হতে শত মাইল ক্রোশ দূরে
অপরাগতায় প্রসূতি নির্মম; বদৌলতে মাতৃত্বের সংকল্প পূরণ
অকোতুভয় প্রাণে জানে প্রসূতি; সংঘাতে নিশ্চিত মরণ।