চুরাশি বছর বেঁচে ছিল যে মৃত শিশু

মারা যাবার সময় আমার বয়স ছিল এক সেকেণ্ডে
মরে গিয়েও বেঁচে ছিলাম আরো চৌরাশি বছর
সেই দীর্ঘ আয়ুষ্কালে জেনে নিলাম পৃথিবী সৃষ্টির রহস্য।
রহস্য উদ্ভাবনে অহেতুক আস্পর্ধায়,
ওরা আমাকে জীবন্ত কবর দিল তিন তিনবার
পরাধীনতায় প্রথমবার
দায়বদ্ধতায় দ্বিতীয়বার
অসহায়ত্বে, তৃতীয়বার!

 

প্রথমবার,
কেঁদে কেঁদে হয়রান হলাম! কেউ শুনল না
পানসে মুখে আবেগী আহ্লাদে গোলাপী আকাশ ছুঁয়ার তাগিদে,
ঘাসফড়িং-ব্যাঙাচির খেলায় অভিমান ভুলে গেলাম;
কেউ দেখলনা।

 

দ্বিতীয়বার,
আলোর বর্ণালীতে বাদামী অভিলাষে;
ছুটে গেলাম আকাশ তলে!

দেখলাম,
চিরসত্যের মত সাদা-কালো রংধনু
বুকের পুরোটা দখল করে আছে
ভয়ানক অসুখে আদি দিগন্তে
বৃষ্টি ভেজা সুখ মুখ আড়াল করে রইল মেঘের কোলে
তবু,
শ্বাশত সুন্দর হেঁটে গেলে নৈঃশব্দের পথে;
বেখেয়ালী মন ছুটে তার পিছু।

 

অবশেষে,
পথের শেষে যেখানে পথের শুরু
হলুদ খুঁজে খুঁজে শীর্ণ হল সবুজ
পৃথিবী তার অনাধিকারের দরজা খুলে
অধিকার ছেড়ে দিল আচানক।

 

ঈশ্বর বললেন, স্বাগতম!
পৃথিবীর রহস্য উদ্ভাবন, বাকি নেই কিছু আর
ফিরে এসো এবার!
আর তখনই- বিশুদ্ধতা নিয়ে মুক্ত হলো;
চৌরাশি বছর বেঁচে থাকা এক সেকেণ্ডের;
মৃত শিশু।