অটামের পাখি

এই যে দেখছো তুমি,
মমিজি মাতসুরি জাপান ছেড়ে আমেরিকার নগ্ন পথে
গাছেদের পাদদেশ স্তূপাকার দৃষ্টিনন্দিত ঝরা পাতা,
লাল-কমলা-হলুদ-খয়েরী বেশে
এই যে দেখছো তুমি
অটাম কেমন গুটিয়ে নিয়েছে বেলা শীতল রাতের কোলে
এসবই ঘোর লাগা সময়, বয়স পরিক্রমায়।

জলরাশি থেকে ভীষণ দূরে প্রশস্ত একটি নীল আয়না
সেখানে তেত্রিশটি সাদা কালো পাখি উড়ে উড়ে শূন্যে মিশে যায়
আমি অবলোকন করি, একাগ্রচিত্তে
দুটি আঁখি ফুঁলে ফেঁপে উঠে প্রায়শই মধ্যরাতে।

এই যে দেখছো তুমি মুনশাইন মাদকতা মধ্যনিশিতে
এসবই উড়ন্ত পাখির স্থিতি ধারণে আমেরিকার বদান্যতা।
তুমি কি জানো,
এখানে ঘোর লাগা বিষাদ বসন্তী রঙে
হিমঝুরি, গগনশিরীষ কিংবা দেব- কাঞ্চন খোঁপায় গুঁজে না?
যাযাবর পথিকের মত শুভ্র মেঘ নীলাকাশ হেঁটে বেড়ায় না?

এখানে রাতগুলো হয় নক্ষত্রবিহীন, সাদা-মাটা কালো
এমন রাতে চট করে প্রায়ই মাথা ধরে যায়
চুলগুলো হাতের মুঠোয় পেঁচিয়ে ধরতেই দাঁতে দাঁত চেপে ধরি
দেখি,
তেত্রিশটি পাখি তখনো ডানা ঝাপটিয়ে আমেরিকার আকাশে
রঙচটা অটামে খুঁজে নেয় সবুজ; শূন্যতাকে বুকে ধারণ করে।